<?xml version="1.0"?>
<rss version="2.0">
   <channel>
      <title>হিজিবিজি by Rezaul Karim Rabbi</title>
      <link>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji</link>
      <description>I think, therefore I write</description>
      <language>en-us</language>
      <pubDate>2019-11-09 14:07:13 UTC</pubDate>
      <lastBuildDate>2020-04-10 08:19:59 UTC</lastBuildDate>
      <webMaster>hello@padlet.com</webMaster>
      <image>
         <url></url>
      </image>
      <item>
         <title>আবিষ্কারের খোঁজখবরঃ (১ম পর্ব)</title>
         <author>r4bb1</author>
         <link>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492459617</link>
         <description><![CDATA[<div><br>1. চুল্লি (Oven) (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০) </div><div>. </div><div>তন্দুরি টিক্কা বা তন্দুরি নান খেতে কেমন? দারুণ তো? তৈরি করতে প্রথমেই কী দরকার? না, একটা চুলো। এই চুলোটাই মানুষ আবিষ্কার করেছিল আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর আগে। এক ফলমূল বাদে তখন মানুষের খাবারদাবার প্রায় সবই তন্দুরি। ২০১৪ সালে পৃথিবীর প্রাচীনতম চুল্লি আবিষ্কৃত হয় ক্রোয়েশিয়ায়। সেকালে মাটিতে অগভীর গর্ত করে তাতে জ্বলন্ত কয়লা ফেলে ছাইচাপা দিয়ে রাখা হত। তারপর খাদ্যবস্তু ছোটোবড়ো আকারের পাতায় মুড়ে চুল্লিতে রেখে ওপরে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হত। আনুমানিক সময়জ্ঞানের ভিত্তিতে তারপর পাতামোড়া পুঁটুলি তুলে নিয়ে এলেই খাবার তৈরি। পরবর্তীকালে সময় আর বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জন্ম নিল ইটনির্মিত চুলো, যা আজও বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়। প্রাচীন সিন্ধুসভ্যতায়ও এধরনের চুল্লির প্রমাণ মেলে। মহেঞ্জোদারোতে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সময়কার চুল্লির হদিশ মিলেছে।</div><div>. </div><div>তবে প্রাচীন চুল্লি থেকে অত্যাধুনিক চুল্লির এই বিবর্তনের মূল কারিগর কিন্তু গ্রিকরা। তারা সাধারণ রুটিকে আরও সুন্দর রূপ দিতে চেয়েছিল। তখন দরকার হয়ে পড়েছিল সাধারণ চুল্লির উন্নতিকরণ। আর অচিরেই তারা সেঁকা খাদ্য প্রস্তুতিকে (বেকারি) একটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হল। কারণ, ততদিনে তারা আটা-ময়দার সঙ্গে ব্যবহার করতে শিখে গেছিল এক যুগান্তকারী উপাদান – ইস্ট।</div><div>.</div><div>. </div><div>2. মাড়াইযন্ত্র (Flail) (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০)</div><div>. </div><div>গাঁয়ে-গঞ্জে পিচের ড্রাম বা কাঠের টুলের ওপর আছড়ে আছড়ে গাছ থেকে পাকা ধানের ছড়া আলাদা করতে দেখেছ নিশ্চয়ই? শস্য মাড়াইয়ের এই ধারণা কিন্তু আজকের নয়। কালের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কিছুটা রূপ পরিবর্তন করেছে মাত্র। মানুষের কৃষিসভ্যতার আদিমতম যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে এই মাড়াইযন্ত্র একটি। প্রায় হাজার পাঁচেক বছর আগে প্রাচীন মিশরীয়রা একটা ধাতব দন্ডের একপ্রান্তে চামড়ার সরু ফিতে বেঁধে শস্যের আঁটিতে পিটিয়ে পিটিয়ে মাড়াই করত। তারপর শস্য আলাদা হয়ে গেলে ঠিক একই পদ্ধতিতেই শস্যের খোসা ছাড়াত।</div><div>. </div><div>পরবর্তীকালে এই যন্ত্রটাই খানিকটা রূপ বদলে রাজকীয় শাসনদণ্ডে রূপান্তরিত হয় প্রাচীন মিশরে। ততদিনে অবশ্য ধাতুবিদ্যার দারুণ উন্নতি হয়। ধাতবদণ্ডে শেকল আটকে তার আগায় মোটা কাঁটাওয়ালা ধাতব পিণ্ড যুক্ত করে এককালের সাধারণ মাড়াইযন্ত্র রাজার হাতে উঠে আসে শাসনদণ্ড রূপে। ফ্যারাও তুতনখামেনের সমাধির মধ্যেও এই অস্ত্রের সন্ধান মেলে।</div><div>. </div><div>. </div><div>3. ঘণ্টা (Bell) (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০)</div><div>. </div><div>প্রাচীন চিনারা সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তিবিদ্যায় প্রভূত উন্নতি লাভ করেছিল। ৩৯৫০ এবং ১৭০০ খ্রিস্টপূর্বের মধ্যবর্তী সময়ে ইয়াং-শাও অঞ্চলের বাসিন্দারা রঙিন ছবি অঙ্কিত মৃৎশিল্পে দারুণ দক্ষতা অর্জন করেছিল। অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি তারা মাটির ঢেলার মতো একধরনের সঙ্গীতযন্ত্র তৈরি করে ফেলল যেটা কায়দা করে নাড়াচাড়া করলেই দারুণ মিষ্টি এক আওয়াজ বের হত। এই জিনিসটাই পৃথিবীর প্রাচীনতম ঘণ্টা হিসেবে গণ্য করা হয়। মধ্য চিনের হেনান প্রদেশে খননকার্য চালিয়ে ছোটো লাল রঙের এধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়।</div>]]></description>
         <enclosure url="" />
         <pubDate>2020-04-04 14:14:02 UTC</pubDate>
         <guid>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492459617</guid>
      </item>
      <item>
         <title>আবিষ্কারের খোঁজখবরঃ (২য় পর্ব) </title>
         <author>r4bb1</author>
         <link>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492460242</link>
         <description><![CDATA[<div><br>৪. নিয়ন্ত্রিত আগুন (খ্রিষ্টপূর্ব ১,৪২০,০০০) </div><div>. </div><div>আদিম জাতি (হোমো ইরেক্টাস) যে জিনিসটির হাত ধরে আক্ষরিক অর্থে সভ্যতার জগতে পা রাখে তা হল আগুন।  আগে খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০,০০০ এর আশেপাশে জীবিত লোকদের আগুনের ব্যবহারকারী হিসেবে ধারণা করা হলেও শেষে ১৯৮১ সালে কেনিয়া এবং ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রমাণ পাওয়া যায় যে প্রায় ১৪,২০,০০০ বছর আগেও মানুষ আগুনের ব্যবহার জানত। হার্ভার্ডের নৃতত্ত্ববিদ রিচার্ড র‍্যাংহ্যাম মনে করেন, রান্না করা খাবার-দাবার মানুষের মস্তিষ্ককে উর্বর করে তোলে। আর আগুন ব্যবহার করে রান্না করা খাবার খেয়ে আদিম জাতি কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের পর বর্তমান হোমো সেপিয়েন্স-এ রূপান্তরিত হয়েছে।</div><div>. </div><div>প্রশ্ন হচ্ছে, আগুন এল কোত্থেকে ? কীভাবে আবিষ্কৃত হল? কী করেই বা খোঁজ মিলল ? </div><div>এই জটিল প্রশ্নের ব্যাখ্যা আজও তেমন সঠিকভাবে মেলেনি। তবে নানা মুনির (বিজ্ঞানীর) নানা মত মিশিয়ে মোটামুটি সর্বজনস্বীকৃত যে ব্যাখ্যা দাঁড়ায় তা হল, আগুন সৃষ্টি হয়েছে প্রাকৃতিকভাবেই। আদিম মানুষ সন্ধান পেয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তারপর নিজেদের উষ্ণ রাখতে, খাবার-দাবার তৈরি করতে আগুনের ব্যবহার করায়ত্ত করে ফেলে ধীরে ধীরে। এছাড়াও শত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে বা হিংস্র জীবজন্তু থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আগুনের ব্যবহার শুরু করে। তারপর এক সময় ঘন বনজঙ্গল পরিষ্কার করে রাস্তা তৈরির কাজে, কৃষিকাজে, বিভিন্ন ধাতুর গলিয়ে জিনিসপত্র তৈরির কাজে আগুনের যথাযথ ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত হয়ে পড়ে। আগুন আদিম মানুষকে প্রস্তরযুগ থেকে চিরতরে মুক্তি দেয়। </div><div>. </div><div>“Seek wood already touched by fire. It is not then so very hard to set alight.” – African proverb.</div><div>. </div><div>. </div><div>৫. নিরাপদ আশ্রয় (খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০,০০০)</div><div>. </div><div>“…next to agriculture, shelter is the most necessary to man. One must eat, one must have shelter.” – Philip Johnson, architect.</div><div>. </div><div>মনে করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০,০০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ২০০,০০০ পর্যন্ত ইউরোপে একটা আদিম জাতি বসবাস করত। তাদের সপক্ষেই প্রথম ঘর-দুয়ার বানিয়ে থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এই জাতিকে হোমো হেইডেলবারজেনসিস নামে আখ্যা দেওয়া হলেও তারা হোমো সেপিয়েন্স না হোমো নিয়ানডারথ্যালেনসিস প্রজাতির পূর্বসূরি ছিল তা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। ফ্রান্সের টেরা আমাটা অঞ্চলে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা প্রায় ৪০০,০০০ বছর পুরনো এক ধরনের ডিম্বাকৃতি কুঁড়েঘরের ভিতের হদিশ পান। তেমনি ২০০০ সালে জাপানেও ৫০০,০০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই ধরনের আদিম জাতি দ্বারা তৈরি আশ্রয়ের সন্ধান মেলে। উত্তর টোকিওর চিচিবু-এর পাহাড়ি অঞ্চলে এই ধরনের কুঁড়েঘরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয় যেগুলোর আশেপাশে মোট ত্রিশটা আদিম মানব ব্যবহৃত পাথরের যন্ত্রপাতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।</div><div>. </div><div>আমরা সবাই জানি যে, আমাদের পূর্বপুরুষরা গুহার ভেতরে বাস করতেন। আর সেগুলো তাঁরা জল, খাবার-দাবার যেখানে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত সেখানেই তৈরি করতেন।</div><div>. </div><div>. </div><div>৬. পোশাক-পরিচ্ছদ (খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০,০০০) —</div><div>. </div><div>খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৪০০,০০০ বছর আগে হোমো সেপিয়েন্স নিজেদের অনাবৃত শরীর আবৃত করার পন্থা উদ্ভাবন করে। নৃতত্ত্ব এবং প্রত্নতত্ত্ববিদেরা মনে করেন, আদিম মানুষ গাছের ছাল, বড় বড় পাতা ও শিকার করা পশুদের চামড়া দিয়ে নিজেদের পোশাক-আশাক তৈরি করত। ফলে এরা প্রচণ্ড শীত, বৃষ্টি বাদল আর বাতাস থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়। যদিও এই আবিষ্কারের সঠিক দিনক্ষণ বের করা খুবই কঠিন, তবুও প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ১৯৮৮ সালে রাশিয়ার কোস্টেনকির কাছাকাছি প্রায় ৩০,০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের প্রাচীন কিছু হাড়ের তৈরি সেলাই করার সূচ খুঁজে পান। র‍্যালফ কিটলার, ম্যানফ্রেড ক্যায়সার এবং মার্ক স্টোনকিং – এই তিন নৃতত্ত্ববিদ কিছু উকুনের জিনগত পরিকাঠামো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখতে পান যে এদের জিনের বয়স প্রায় ১০৭,০০০ বছর পুরনো। আবার কিছু সংখ্যক বিশ্লেষক অন্য আরেকটি বিশ্লেষণায় উকুনের জিনকে ৫৪০,০০০ বছর পুরনো বলেও দাবি করেন। যেহেতু আদিম জাতির সারা শরীর রোমাবৃত ছিল এবং উকুনকে বাঁচতে গেলে পোশাক-আশাকের সাহায্য নিতে হয় তাই উকুনের জিনের বয়স নির্বাচন করে আদিম জাতির প্রথম পোশাক তৈরির কাল নির্ণয় করা হয়। </div><div>. </div><div>“Clothes make the man. Naked people have little or no influence in society.” – Mark Twain, More Maxims of Mark (1927)</div><div>. </div><div>. </div><div>৭. বর্শা (খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০,০০০) —</div><div>. </div><div>সেনেগালের কেডৌগৌ নামক স্থানে শিম্পাঞ্জিদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণকালে দেখা যায়, ওরা গাছের শক্ত ডাল ভেঙে নিয়ে ছাল আর শাখাপ্রশাখা ছাড়িয়ে নিজেদের দাঁতের সাহায্যে ডালের একপ্রান্ত ছুঁচলো করে নিয়ে বেশ বিপজ্জনক ধরনের বর্শা বানিয়ে ফেলে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে এই ধরনের বর্শা প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০,০০০ বছর আগে ব্যবহৃত হত। জার্মানির ব্রেমেন-এর কাছাকাছি অঞ্চলেও শিকারিরা ঠিক এই ধরনের বর্শার সাহায্যেই শিকার করত বলে প্রমাণ রয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০,০০০ বছর আগে এই গাছের ডালের বর্শাগুলো আগুনে সেঁকে আরও শক্ত করে নেওয়া হত বলে ধারণা করা হয়। তারও আগে খ্রিষ্টপূর্ব ২৮০,০০০-এর আশেপাশের সময়ে গাছের ডালের একপ্রান্তে ছুঁচলো পাথর বেঁধে বর্শা তৈরি করে শিকার করত আদি মানব। এই দিয়ে এরা গোটা একটা ম্যামথ শিকার করতেও পিছপা হতো না। জার্মানির ব্রেমেন অঞ্চলে ঠিক এই জাতীয় বর্শাবিদ্ধ ম্যামথের কঙ্কাল আবিষ্কার তাই প্রমাণ করে। সাহারা আর মধ্য আমেরিকাতেও এই ধরনের বর্শার সাহায্যে শিকারের প্রমাণ পাওয়া যায়।</div><div>. </div><div>তারপর ধীরে ধীরে মানুষ যখন ধাতুর ব্যবহার শিখল তখন শিকারের ক্ষেত্রে পাথরের বদলে ধাতুর ফলা কাজে লাগাতে লাগল। শিকার করার সুবিধাও বেড়ে গেল অনেকখানি।</div>]]></description>
         <enclosure url="" />
         <pubDate>2020-04-04 14:14:50 UTC</pubDate>
         <guid>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492460242</guid>
      </item>
      <item>
         <title>আবিষ্কারের খোঁজখবরঃ (৩য় পর্ব) </title>
         <author>r4bb1</author>
         <link>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492460431</link>
         <description><![CDATA[<div><br>৮. বড়শি (Fish Hook) (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫,০০০) </div><div>. </div><div>আদিম জাতি যে অচিরেই মাছ শিকার করতে শিখে ফেলেছিল তার বড়সড় প্রমাণ মেলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা যখন প্রায় ৩৫,০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের বড়শি খোঁজে পান। এগুলো মূলত জীবজন্তুর হাড়, শক্ত ঝিনুক, পশুর শিং আর গাছের শক্ত ডালপালা দিয়েই তৈরি করা হত। প্রাথমিক অবস্থায় অবশ্য শুধুমাত্র গাছের ডালপালা দিয়েই বড়শি বানিয়ে মাছ ধরতে শিখেছিল আদি মানব। মাছ শিকারের ক্ষেত্রে হয়তো ডালপালার বড়শিই বেশি সুবিধেজনক ছিল। কেননা, সত্তরের দশকেও কাঠনির্মিত বড়শি ব্যবহৃত হত জলজ প্রাণী শিকারের কাজে। ধীরে ধীরে সাধারণ বড়শিকে কাঁটাযুক্ত বড়শিতে পরিণত করে খাবার তালিকায় নিয়মিত মাছের পদ নিশ্চিত করে ফেলে তারা। ক্যানবেরাস্থিত অস্ট্রেলীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নত্তত্ববিদ সুসান ও’কনর ও তাঁর দলবল দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার পূর্ব টিমরে চুনাপাথরে তৈরি জেরিমালাই নামক এক গুহায় এই ধরনের বড়শিসহ বিশালাকৃতির টুনা জাতীয় মাছের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান। প্রথমে ঝিনুকের শক্ত খোলের তৈরি দুটো ভাঙা বড়শি নজরে এলেও পরে এই গুহা থেকে ৩৮০০০-এরও বেশি মাছের কাঁটা আবিষ্কৃত হয় এবং পরীক্ষাগারে কাঁটাগুলোর বয়স প্রায় ৪২০০০ বছর বলে নির্ণীত হয়। এর ফলে প্রায় চল্লিশ থেকে বিয়াল্লিশ হাজার বছর আগেও আদিম মানুষ বড়শি দিয়ে মাছ শিকারে পটু ছিল বলে অনুমিত হয়।</div><div>. </div><div>     “Opportunities are… everywhere and so you must always let your hook be hanging.” –  Augustine ‘Og’ Mandino, writer.</div><div>. </div><div>. </div><div>৯. হিসাবরক্ষক লাঠি (Tally Stick) (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫,০০০)</div><div>. </div><div>১৯৬০ সালে বেলজিয়ান কঙ্গোতে একধরনের বেবুনের ঊরুর হাড় পাওয়া যায় যেটাতে লম্বভাবে তিনটি দাগের ওপর আড়াআড়িভাবে অসংখ্য দাগ কাটা ছিল। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা ও সোয়াজিল্যান্ডের মধ্যবর্তী লেবম্বো পর্বতমালায় ঠিক এই ধরনেরই বেবুনের ঊরুর হাড় আবিষ্কৃত হয় যাতে মোট ২৯টি স্পষ্ট খাঁজের হদিশ মেলে। লেবম্বো পর্বতমালার নামানুসারে এই হাড়ের নামকরণ করা হয় লেবম্বো হাড়। প্রায় দুই ডজন রেডিও কার্বন ডেটিং পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে এগুলো প্রায় ৩৫,০০০ খ্রিষ্টপূর্ব সময়কার। তবে হাড়খানার একপ্রান্ত ভাঙা থাকার কারণে ঠিক কতটা খাঁজ তাতে ছিল তা অনুমান করা যায়নি। ধারণা করা হয়, এই জাতীয় হাড় বা কাঠি দ্বারা আদি মানব চান্দ্রকলা বা দশা (লুনার ফেজ) পরিমাপ করত। তবে এর আগে ১৯৩৭ সালে চেকস্লাভাকিয়ায় খননকার্যের ফলে কার্ল অ্যাবসোলন নেকড়ের হাড় বলে অনুমিত যে ট্যালি স্টিক খুঁজে পান তা ৩০,০০০ বছরের পুরনো বলে দাবি করা হয়। এতে মোট ৫৫টা দাগ ছিল যা অনেকে ট্যালি মার্কস বলে মনে করেন।</div><div>. </div><div>     “… with worn-out, worm-eaten rotten bits of wood… a savage mode of keeping accounts…” –  Charles Dickens, novelist.</div><div>. </div><div>. </div><div>১০. ছিদ্র (Pierce) (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫,০০০)</div><div>. </div><div>মনে করা হয়, সুতীক্ষ্ণ বর্শা জাতীয় কোনও অস্ত্রদ্বারা মানুষ একসময় কাঠ, পশুর মোটা চামড়া ইত্যাদি ছিদ্র করতে শিখেছিল উপস্থিত প্রয়োজনে। অনেক পরে প্রাচীন মিশরীয় কাষ্ঠশিল্পীরা আস্তে আস্তে ধনুকের মতো বাঁকানো একধরনের দড়ি প্যাঁচানো যন্ত্রদ্বারা ছোটবড় নানাধরনের ছিদ্র করতে শিখেছিল। ৯,০০০ খ্রিষ্টপূর্বে দাঁত ছিদ্র করার কৌশল মানুষের অবগত ছিল বলে প্রমাণিত হয়েছে। কালে কালে রোমানরা ছিদ্রের কাজে আগর ব্যবহার করতে শুরু করে।</div><div>. </div><div>. </div><div>১১. ধারালো পাথর ফলক (Sharp Stone Blade) (খ্রিষ্টপূর্ব ৩০,০০০)</div><div>. </div><div>আদিম মানব শিকার করতে শিখল। পাশাপাশি শিকারের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত উৎকর্ষতা এবং অস্ত্রশস্ত্রের আধুনিকীকরণের দিকে সচেষ্ট হল। মানুষ উপলব্ধি করল, ভোঁতা পাথর বা সাধারণ লাঠিসোঁটার চেয়ে ধারালো বা তীক্ষ্ণ অস্ত্রশস্ত্রই শিকারের পক্ষে আদর্শ। শুরু হল সাধারণ কোনও কঠিন পাথরকে কোনও শক্ত কাঠের টুকরো বা হাড়গোড় বা অপর কোনও অপেক্ষাকৃত শক্ত পাথর দ্বারা আঘাত করে করে ধারালো এবং তীক্ষ্ণ করে তোলা। পাথর থেকে নির্গত প্রচুরসংখ্যক ছোটবড় পাথরকুচিগুলো দিয়ে আবার ছোটখাটো অস্ত্র যেমন, কাস্তে, ছুরি, তির বা বর্শার ফলক ইত্যাদি তৈরি করা হত। নিরীহ পাথরকে ধারালো করে তোলার এই কৌশলকে বর্তমানে ‘লিথিক রিডাকশন’ বলা হয়। যে ধরনের পাথর এ কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয় সেগুলোর মধ্যে চকমকি পাথর ছিল অন্যতম।</div><div>. </div><div>     “Regardless of our ancestral heritage, we’re all descended from flintknappers.” –  Bert Mathews, sharp stone maker.</div>]]></description>
         <enclosure url="" />
         <pubDate>2020-04-04 14:15:03 UTC</pubDate>
         <guid>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492460431</guid>
      </item>
      <item>
         <title>আবিষ্কারের খোঁজখবরঃ (৪র্থ পর্ব) </title>
         <author>r4bb1</author>
         <link>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492460587</link>
         <description><![CDATA[<div><br>১২. সেলাই (Sewing) (খ্রিষ্টপূর্ব ২৫,০০০)</div><div>. </div><div>সূচ আর সুতো দিয়ে দুটো জিনিস একত্রে গেঁথে দেওয়া নতুন কোনও ব্যাপার নয়। তবে এই শিল্পটা যে এত প্রাচীন তা হয়তো আমাদের অনেকেই ধারণার বাইরে। আদি প্রস্তরযুগ তথা খ্রিষ্টপূর্ব ২৫,০০০-এর কাছাকাছি সময়ই মানুষ যে সুই-সুতোর সাহায্যে গাছের বড়ো বড়ো মজবুত পাতা, ছাল-বাকল আর পশুর চামড়া সেলাই করে নিজের পোশাক পরিচ্ছদ তৈরি করত তার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্স আর রাশিয়ার মস্কোর কাছাকাছি। প্রত্নতাত্ত্বিকরা পশুপাখির হাড়গোড় দ্বারা নির্মিত সূচের সন্ধান পান। শুধু তাই নয়, ফ্রান্স এবং সুইজারল্যান্ডে বিভিন্ন সুদৃশ্য বীজ আর পশুপাখির দন্ত-খচিত আদিম মানবের কিছু পরিধেয় বস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। তাছাড়া সাধারণ সূচ হিসেবে আমেরিকার আদিবাসীরা গাছ-গাছড়ার কাঁটাযুক্ত পাতাও ব্যবহার করত।</div><div>. </div><div>. </div><div>১৩. বর্শা ছোঁড়ার কল (Atlatl) (খ্রিস্টপূর্ব ২৩,০০০)</div><div>. </div><div>পঞ্চদশ শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে স্পেনের আদিবাসীরা যখন মধ্য মেক্সিকোর আদিবাসী অ্যাজটেকদের সান্নিধ্যে এল তখন এদের বর্শা ছোঁড়ার কৌশল দেখে স্পেনীয়রা হয়রান হয়ে গেল। অ্যাজটেকরা প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২৩,০০০-এর সময়কার উদ্ভাবিত বর্শা ছোঁড়ার কলের সাহায্যে লম্বা দূরত্বে থাকা শিকারকে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করতে পারত। মাত্র দুই ফুট লম্বা একটা বিশেষভাবে তৈরি কাঠের টুকরোর সাহায্যে ছয় ফুট লম্বা পাথরের ফলক লাগানো একটা তীক্ষ্ণ বর্শাকে অসাধারণ কৌশলে দ্রুতগতিতে ছুঁড়ে দিতে পারত এরা। খালি হাতে বর্শা ছোঁড়ার চেয়ে এই কৌশলে শক্তি অনেকগুণ বেশী প্রয়োগ করা যেত বলে অস্ত্রটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শিকারকে আঘাত করত। আগায় লাগানো পাথরের ফলকটার ওজনের তারতম্য ঘটিয়ে আর শিকারের আপাত-দূরত্ব মেপে নিয়ে এই কৌশল প্রয়োগ করা হত। শিকার অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী হলে পাথরের ফলকের ওজন বাড়িয়ে দেওয়া হত। এতে অনেক সময় কল থেকে নির্গত বর্শার গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিমিও ছাড়িয়ে যেত। এই কলের আবিষ্কারের প্রায় ২৫,০০০ বছর পরেও কেউ কেউ সখের বশবর্তী হয়ে এই কৌশলে বর্শা ছোঁড়া অনুশীলন করেন এখনও।</div><div>. </div><div>     “The atlatl is the tool ancient peoples used to ‘bring home the bacon’.” – Robert ‘Atlatl Bob’ Perkins, (Primitive Technologist)</div><div>. </div><div>. </div><div>১৪. তির-ধনুক (Bow and Arrow) (খ্রিস্টপূর্ব ২০,০০০)</div><div>. </div><div>আদিমজাতি এই তির ধনুকের ব্যবহার করতে শিখেছিল সেই পুরাতন প্রস্তর যুগে প্রায় ২০,০০০ খ্রিস্টপূর্বে। পশ্চিম ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকায় কিছু গুহাচিত্রে আদিম মানব কর্তৃক ব্যবহৃত তির ধনুকের প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্শা দিয়ে শিকার করার চেয়ে তির ধনুকের ব্যবহার সহজতর হওয়ার সুবাদে অচিরেই তা গুহামানবদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিরন্দাজের পেশির শক্তি ছিলার টানের সাথে সাথেই ধনুকের মধ্যে সংরক্ষিত হওয়ার ফলে এটা পৃথিবীর সর্বপ্রথম শক্তি সংরক্ষক কল হিসেবে সমাদৃত হয়। ছিলা টেনে তির ছেড়ে দিলে তা বর্শার চেয়ে অনেক বেশী দূরত্ব অতিক্রম করার ফলে এই পদ্ধতি শিকারের ক্ষেত্রে বর্শার প্রয়োজনীয়তাকে দূর করে দেয়। বায়ু-গতিবিদ্যার ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আদিমানব তিরকাঠির পেছনে পাখির পালক লাগিয়ে তা ব্যবহার করত।</div><div>. </div><div>     “Whose arrows are sharp, and all their bows bent, their horses’ hoofs shall be counted like flint…” – Isaiah 5:28</div><div>. </div><div>. </div><div>১৫. বুম্যর‍্যাং (Boomerang) (খ্রিস্টপূর্ব ১৮,০০০)</div><div>. </div><div>কার্টুন ‘জঙ্গল বুক’-এর মোগলির কথা মনে আছে তো? যে কিনা একটা ঈষৎ বাঁকানো কাঠের টুকরো বিশেষ দক্ষতায় ছুঁড়ে মারত গাছগাছালিতে লুকিয়ে থাকা শত্রুর গায়ে আর কাঠের টুকরোটাও শত্রুকে ঘায়েল করে মুহূর্তেই আবার ফিরে আসত মোগলির হাতে? হ্যাঁ, এই ধরনের অস্ত্রকেই বুম্যর‍্যাং বলে যেগুলো লক্ষ্যভেদ করে আবার ফিরে আসে নিক্ষেপকের হাতে। আদিমানব কিন্তু প্রায় ১৮,০০০ খ্রিস্টপূর্বেই এই বিদ্যা রপ্ত করে ফেলেছিল। তবে এই অদ্ভুত অস্ত্রটি অ্যাবরিজিনীজ (অস্ট্রেলিয়ার আদিমজাতি) সম্প্রদায়ের আবিষ্কার বলে গণ্য করা হয়। ভৌগোলিক উৎপত্তি এবং কর্ম-উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে এরা বিভিন্ন আকার এবং ধরনের বুম্যর‍্যাং বানাত। জানা যায়, ইউরোপে এক ধরনের আদিমজাতি বুম্যর‍্যাং হিসেবে কুড়োল ছুঁড়ে মারত শিকার বা শত্রুপক্ষের গায়ে। এই পর্যন্ত পোল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কার্পেথিয়ান পর্বতমালার গুহায় আবিষ্কৃত বুম্যর‍্যাংকেই প্রাচীনতম বলে ধরা হয়। পরীক্ষাগারে এই বুম্যর‍্যাংয়ের বয়স খ্রিস্টপূর্ব ১৮,০০০-এর কাছাকাছি বলে প্রমাণিত হয়।</div>]]></description>
         <enclosure url="" />
         <pubDate>2020-04-04 14:15:15 UTC</pubDate>
         <guid>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492460587</guid>
      </item>
      <item>
         <title>আবিষ্কারের খোঁজখবরঃ (৫ম পর্ব) </title>
         <author>r4bb1</author>
         <link>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492460725</link>
         <description><![CDATA[<div><br>১৬. বিনুনি দড়ি (Braided Rope) (খ্রিস্টপূর্ব ১৭,০০০)</div><div>. </div><div>মানবজাতির সভ্যতার অগ্রগতির ক্ষেত্রে দড়ি-কাছির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা বলাই বাহুল্য। আর এই দড়ি পাকিয়ে বিনুনির মতো আকৃতি দিয়ে মানুষ যে খ্রিস্টপূর্ব ১৭,০০০-এর নিকটবর্তী সময়েই এর ব্যবহার করতে শিখে গিয়েছিল তা দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ল্যাস্কক্স-এর গুহাগুলোয় আবিষ্কৃত প্রমাণ তার সাক্ষ্য বহন করে। ধারণা করা হয়, গাছগাছড়ার শেকড় বা শক্তপোক্ত লতা দিয়ে পাকানো মজবুত এই দড়ির সাহায্যে আদিমানব শিকারের যন্ত্রপাতি, ভারী পাথরখণ্ড বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবহণ করত। পরবর্তীকালে মিশরীয়রা প্রায় ৪০০০ খ্রিস্টপূর্ব কালে উন্নতধরনের দড়ি-দড়ার জন্ম দেয়। এরা ওয়াটার রীড নামে একপ্রকার ঘাস, চামড়া আর পশুদেহের চুল দিয়ে একধরনের মজবুত দড়ি তৈরি করত। এই দড়ির সাহায্যেই তারা বিশালাকৃতির পিরামিডগুলো তৈরি করেছিল যা আজও নিজস্ব মহিমায় ভাস্বর। ২৮০০ খ্রিস্টপূর্বে চীনারা হেম্প গাছের তন্তু দিয়ে দড়ি তৈরি করতে শেখে যা ধীরে ধীরে সারা এশিয়া মহাদেশে প্রসিদ্ধি লাভ করে।</div><div>. </div><div>. </div><div>১৭. চান্দ্র পঞ্জিকা (Lunar Calendar) (খ্রিস্টপূর্ব ১৫,০০০)</div><div>চন্দ্রের বিভিন্ন কলা বা দশার ওপর ভিত্তি করে আদিম মানব প্রতি ২৯.৫৩০৫৮৮ দিনে একমাস হিসেবে চন্দ্র পঞ্জিকা তৈরি করত। প্রথম মাস ২৯ দিনে এবং পরবর্তী মাস ৩০ দিনের পালা করে মাসের হিসেব করা হত যাতে চন্দ্রের দশা বা কলার সাথে সমঞ্জস্য রক্ষা করা যায়। প্রাচীনতম চন্দ্র পঞ্জিকাটি দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ল্যাস্কক্স-এর গুহায় আবিষ্কৃত হয় যার বয়সকাল খ্রিস্টপূর্ব ১৫,০০০ বলে অনুমিত হয়। আবিষ্কর্তা জার্মান গবেষক Dr. Michael Rappenglueck-এর ভাষায়, “They were aware of all the rhythms of nature. Their survival depended on them…”</div><div>. </div><div>“Day is pushed out by day, and each new moon hastens to its death…” – Horace, Odes, Book II</div><div>. </div><div>. </div><div>১৮. সুরা (Alcoholic Drink) (খ্রিস্টপূর্ব ১০,০০০)</div><div>. </div><div>প্রাগৈতিহাসিক যুগে দৈবাৎ জল এবং ফল-ফলাদির মিশ্রণ প্রখর সূর্যতাপে গেঁজিয়ে ওঠে প্রথম সুরা আবিষ্কৃত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সময় ধরা হয় খ্রিস্টপূর্ব ১০,০০০। কারণ, নিওলিথিক যুগে আদিমানব যে সুরা তৈরি করতে শিখে গিয়েছিল, সেই সময়কার বিয়ার জাগ আবিষ্কার তার সাক্ষ্য বহন করে। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায়ও পানীয় হিসেবে সুরার প্রচলনের দৃঢ় প্রমাণ মেলে। খ্রিস্টপূর্ব ৭,০০০-এর কাছাকাছি সময়ে চিনে এবং ৩,০০০ থেকে ২,০০০ খ্রিস্টপূর্ব হতেই ভারতবর্ষে সুরা প্রচলিত ছিল। ২,৭০০ খ্রিস্টপূর্বের সমসাময়িকে ব্যবিলনিয়রা এক মদ্যদেবীর আরাধনা করত।</div><div>. </div><div>. </div><div>১৯. মৃৎশিল্প (Pottery) (খ্রিস্টপূর্ব ১০,০০০)</div><div>. </div><div>মৃৎশিল্প হচ্ছে পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম মানবসৃষ্ট কোনও কৃত্রিম উপাদান। মৃৎশিল্পের প্রাচীনতম উদাহরণ মেলে জাপানের ওডাই ইয়ামামোতো নামক স্থানে। মতান্তরে, ১৯৬০ সালে জাপানের নাসুনাহারা-এর কিউসু দ্বীপে পাওয়া যায় মাটির তৈরি প্রাচীন বাসনকোসন। ধারণা করা হয়, তৎকালীন সময়ের যাযাবর শ্রেণীর রাখালজাতীয় আদিম মানব দ্বারা এগুলো নিজেদের গুহায় সংরক্ষিত হয়েছিল। প্রায় ১৩,০০০ বছর আগে জাপানের জোমোন শ্রেণীর লোকেরা কারুকার্য করা মৃৎপাত্র নিজেদের খাবারদাবার তৈরি করতে ব্যবহার করত বলে জানা যায়।</div><div>. </div><div>. </div><div>২০. গুলতি (Sling) (খ্রিস্টপূর্ব ১০,০০০)</div><div>. </div><div>গুলতি জিনিসটা দেখেনি বা শোনেনি এমন লোক হয়তো মেলা ভার। হ্যাঁ, ছুঁড়েনি বা ওটা নিয়ে খেলেনি এমন মানুষ অনেকেই আছেন। জিনিসটা দেখতে ছোট্ট একটা আদিম অস্ত্র যা পৃথিবীর বুকে প্রায় ১০,০০০ খ্রিস্টপূর্বেই জন্ম নিয়েছিল বলে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা একমত। বাইবেলের ডেভিড ও গোলিয়াথের বিখ্যাত গল্পগাঁথাতেও প্রাচীন গুলতির উল্লেখ পাওয়া যায়। পেরুর উপকূলে আমেরিকার প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ দ্বারা উদ্ধারকৃত গুলতিই এই অবধি প্রাচীনতম হিসেবে ধরা হয়। পরীক্ষাগারে রেডিও কার্বন পরীক্ষা দ্বারা এর বয়স ২৫০০ খ্রিষ্টপূর্ব বলে স্থির করা হয়। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বিশ্বাস করেন এর থেকে অনেক প্রাচীনতর নিদর্শনও মিলবে একদিন। তাছাড়া তুতনখামেনের সমাধিতেও ১৩২৫ খ্রিস্টপূর্ব সময়কার গুলতি আবিষ্কৃত হয়।</div>]]></description>
         <enclosure url="" />
         <pubDate>2020-04-04 14:15:26 UTC</pubDate>
         <guid>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492460725</guid>
      </item>
      <item>
         <title>আবিষ্কারের_খোঁজখবরঃ (৬ষ্ঠ পর্ব) </title>
         <author>r4bb1</author>
         <link>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492466599</link>
         <description><![CDATA[<div><br>২১. তেলের প্রদীপ (Oil Lamp) (খ্রিস্টপূর্ব ১০,০০০)</div><div>. </div><div>আদিম মানব কৃষিকাজে উন্নতির পাশাপাশি ধাপে ধাপে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার্য যেসব জিনিসের আবিষ্কার করতে থাকে সেগুলোর মধ্যে তেলের প্রদীপ অন্যতম। কিছু কিছু প্রত্নবিজ্ঞানীরা এর আবিষ্কার খ্রিস্টপূর্ব ৮০,০০০ থেকে ৭০,০০০-এর মধ্যে অনুমান করলেও মানুষ খ্রিস্টপূর্ব ১৫,০০০ থেকে ১০,০০০-এর মধ্যেই এর ব্যবহার শুরু করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফ্রান্সের দোরদোনিস অঞ্চলের লাসসিউ নামক স্থানে এক গুহায় প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রদীপ আবিষ্কৃত হয় ১৯৪০ সালে। ধারণা করা হয়, খাঁজবিশিষ্ট পাথর অথবা পাথর কেটে খাঁজ তৈরি করে তাতে বিভিন্ন পশুপাখির শরীরের চর্বি জমিয়ে এই প্রদীপ জ্বালানো হত। সলতে হিসেবে শুকনো কোনও শস্যের গাছের টুকরো ব্যবহার করা হত। পরবর্তীকালে কৃষিকাজের উন্নতির সাথে সাথে এতে চর্বির বদলে অলিভ অয়েল ব্যবহৃত হতে শুরু করে আর পাথরের বদলে টেরাকোটা কাজযুক্ত পোড়ামাটির প্রদীপ বানাতে শেখে মানুষ। ধর্ম যাই হোক না কেন, বিভিন্ন পুজোপাঠ, উপাসনা প্রভৃতির ক্ষেত্রে একটা প্রদীপের শিখা যে অনন্ত পবিত্রতার পরিচায়ক হিসেবে আমাদের মনে শ্রদ্ধা ভক্তির উন্মেষ ঘটায় তার ধারণাটা কিন্তু সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই চলে আসছিল।</div><div>. </div><div>. </div><div>২২. খামার (Granary) (খ্রিস্টপূর্ব ৯৫০০)</div><div>. </div><div>আদিম মানুষ ফসল উৎপাদন শিখল। কিন্তু এগুলো সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা চাই। নয়তো ঝড় বৃষ্টি পশুপাখির হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। তৈরি হল খামারবাড়ি। আর আদিমানব দ্বারা সৃষ্ট এক খামারবাড়ির আবিষ্কার করলেন ইন্ডিয়ানার নট্রে ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানথ্রপোলজির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ল্যান কুইজ। জর্ডন উপত্যকার ধ্রা অঞ্চলে একটা শুষ্ক মালভূমিতে প্রায় নয় বর্গফুট আয়তনবিশিষ্ট এবং দুই ফুট গভীর এক ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন তিনি। পাশাপাশি আরও কিছু ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয় যা মানবসৃষ্ট বাসস্থান ছিল বলে মনে করা হয়। তবে ওই বিশেষ ধ্বংসাবশেষটি ছিল বাকিগুলোর থেকে স্বতন্ত্র। এতে দুই ধাপে মানুষ খাদ্যশস্য মজুত করত বলে প্রফেসর দাবি করেন।</div><div>. </div><div>. </div><div>২৩. ধাতু আবিষ্কার (Metalworking) (খ্রিস্টপূর্ব ৮৭০০)</div><div>. </div><div>ধাতু আবিষ্কারের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আদিমানব ধারণাই করতে পারেনি যে এই যুগান্তকারী আবিষ্কার নিজেদের সভ্যতাকে কোন পথে চালিত করতে পারে। ইরাকের উত্তরাংশে তামা নির্মিত দুল খুঁজে পাওয়ার পর প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ধারণা করেন যে প্রথম ধাতু হিসেবে তামার ব্যবহার মানুষ খ্রিস্টপূর্ব ৮৭০০ থেকেই জানত। প্যালেস্তানিয় এবং অ্যানাটলিয় আদিবাসীরা কোনও গভীর গর্ত বা গুহা খুঁড়তে গিয়ে পাওয়া খনিজ তামা পিটিয়ে অচিরেই বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র বা হাতিয়ার বানিয়ে ফেলল। কিন্তু সে তামা ছিল বেশ নরম। পরবর্তী সময়ে তারা আকরিক থেকে তামা আহরণ-বিদ্যা রপ্ত করে টিনের সাথে মিশিয়ে ব্রোঞ্জ তৈরি করে ফেলল। সে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ – ৪০০০-এর কথা। মানুষ তখন রীতিমতো সোনা ব্যবহার করতে শিখে গেছে। অবশ্য এর আগেই তারা ধাতুবিদ্যার উন্নতিকরণ করতে গিয়ে তামার সাথে আর্সেনিক মিশিয়ে হঠাৎ এক সম্পূর্ণ নতুন ধরণ এবং চরিত্রের ধাতু আবিষ্কার করে ফেলল, যা আর্সেনিক্যাল ব্রোঞ্জ নামে পরিচিত। আর সম্ভবত এটাই পৃথিবীর সর্বপ্রথম মানবসৃষ্ট সঙ্কর ধাতু।</div><div>. </div><div>. </div><div>২৪. গাছের গুঁড়ির শালতি (Dugout Canoe) (খ্রিস্টপূর্ব ৭৫০০)</div><div>. </div><div>প্রয়োজন জিনিসটা মানুষের কখনও এক জায়গায় বা সীমিত সংখ্যক বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাই বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতেই একসময় গুহামানবদের দরকার পড়ল এমন এক বস্তুর যার সাহায্যে অনায়াসে জলের ওপর বিচরণ করা যায়। এতদিন শুধু সাঁতার আর জলে ভাসমান কাঠ জড়িয়ে ধরে সাঁতার কেটেই কাজ চালানো হচ্ছিল। সেই কাঠ অথবা মোটা গাছের গুঁড়িকে কাজে লাগিয়েই তারা তৈরি করে ফেলল শালতিজাতীয় একধরনের জলযান – যা দেখতে শুনতে প্রায় আধুনিক নৌকোর মতোই। ফাঁপা গাছের গুঁড়ির ভেতরটা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বা ঠাসা গুঁড়ির পেটটা কুঁদে বানানো হল এই শালতি। বিবর্তনের মাধ্যমে আস্তে আস্তে একসময় শালতির দুইদিকটা কোণাকৃতি করে দেওয়া হল যাতে জিনিসটা দ্রুত জল কাটতে পারে। ইউরোপের উত্তরাংশে এধরনের প্রাচীন শালতির বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে। প্রাচীন গ্রিসেও এই জলযানের ব্যবহার ছিল। গ্রিকরা একে ‘মনো-অক্সিলন’ বলে, যার ইংরেজি সমার্থক হচ্ছে ‘সিঙ্গল ট্রি’।</div><div><br><br></div>]]></description>
         <enclosure url="" />
         <pubDate>2020-04-04 14:22:21 UTC</pubDate>
         <guid>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492466599</guid>
      </item>
      <item>
         <title>আবিষ্কারের খোঁজখবরঃ (৭ম পর্ব) </title>
         <author>r4bb1</author>
         <link>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492467108</link>
         <description><![CDATA[<div><br>২৫. বাটালি (Chisel) (খ্রিস্টপূর্ব ৭৫০০)</div><div>. </div><div>আধুনিক বাটালি – কত রকম, কত ধরন আর কত ডিজাইনের হয়। তা ধারণাটা কবেকার? না, সেই ৭৫০০ খ্রিস্টপূর্বের আশেপাশে সময়কার। আদিমানব তখন হোমো ইরেক্টাস থেকে হোমো সেপিয়েন্সে উন্নিত হয়েছে। শক্ত হাড়গোড়ের বদলে ধাতুর যন্ত্রপাতি তৈরি করতে শিখে গেছে। গ্রিক স্থপতি ম্যানোলিস কোরেস তো মনে করেন, আদি গ্রিকদের ব্যবহৃত ধাতুনির্মিত বাটালি বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি ধারালো আর শক্তপোক্ত ছিল। ফ্রান্সের দক্ষিণাংশে অউরিগন্যাক গ্রামের নিকটে আবিষ্কৃত প্রায় ৩০০০০ খ্রিস্টপূর্বে নির্মিত হাড়ের বাটালি আর প্রস্তরযুগের শেষে ধাতুনির্মিত বাটালি অন্তত তাই প্রমাণ করে। তবে হাড়গোড়ের বাটালি যতই শক্তপোক্ত হোক না কেন তা ছিল ভঙ্গুর। ব্যবহারবিধি সম্পর্কে আদিম মানব ততটা সচেতনও ছিল না। পরবর্তী সময়ে ধাতুনির্মিত বাটালির আবিষ্কারের ফলে তাদের বিভিন্ন আয়াসসাধ্য কাজকর্ম যেমন, গাছ কাটা, কাঠ এবং পাথর কেটে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা অনেক সহজ হয়ে গেল। প্রাচীন মিশরীয় ছুতোর এবং রাজমিস্ত্রিরা পিরামিড তৈরিতে ব্রোঞ্জের বাটালি ব্যবহার করতেন। মজার কথা হচ্ছে, প্রথম তৈরির সময় বাটালির যে রূপদান করা হয়েছিল আজও তার চেহারার কোনোরূপ পরিবর্তন হয়নি। ইংরেজিতে ‘chisel’ কথাটি এসেছে পুরাতন ফরাসি শব্দ ‘cisel’ থেকে – উৎস হচ্ছে ল্যাটিন শব্দ ‘cisellum’, যার অর্থ ‘কিছু কাটার যন্ত্র’।</div><div>. </div><div>. </div><div>২৬. ইট (Dried Brick) (খ্রিস্টপূর্ব ৭৫০০)</div><div>. </div><div>মানুষ আস্তে আস্তে দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটা বিষয় প্রত্যেকটা প্রয়োজন নতুনভাবে ভাবতে শুরু করল। ফলে দিন দিন নতুন নতুন জিনিসের আবিষ্কার হতে লাগল। বর্তমানে মানবসমাজে বাসস্থান তৈরির ক্ষেত্রে এক অতীব প্রয়োজনীয় জিনিস হচ্ছে ইট। মানুষ প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৭৫০০-এই ইটের ব্যবহার শিখে গিয়েছিল। তখন তা ছিল কাঁচা মাটির, তবে শুকনো। একটা সুরক্ষিত বাসস্থানের প্রয়োজন আদিমজাতিকে বড়োই দুর্ভাবনায় ফেলে রেখেছিল দীর্ঘদিন। শেষে তারা নরম মাটিকে ঢেলা বানিয়ে খটখটে রোদে শুকিয়ে নিয়ে ঘর তৈরি করার কৌশল রপ্ত করে নিল। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা অনুমান করেন, এ কাজে মাটি তারা নদীগর্ভ থেকে সংগ্রহ করত এবং তাদের ইটনির্মিত বাসস্থান রীতিমতো সুন্দর আকার আকৃতির ছিল আর সম্পূর্ণ মাটির তৈরি ছিল বলে অনেকাংশেই শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ছিল। তুরস্কের উচ্চ টাইগ্রিস উপত্যকার ক্যায়োনু আর অ্যানাটোলিয়ার দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত দিয়ারবাকির নামক স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা খ্রিস্টপূর্ব ৭৫০০-এর কাছাকাছি সময়কার কাঁচা ইটের সন্ধান পান। তবে সেগুলো ছিল একেকটা মাটির ঢেলা।</div><div>. </div><div>পরবর্তী সময়ে তুরস্কেরই ক্যাতালহয়ুক অঞ্চলের জর্ডন নদীর উপত্যকার জেরিকোতে আরও কিছুটা উন্নত ধরনের ইটের খোঁজ পাওয়া যায়। এগুলো কাদামাটির ঢেলা বানিয়ে রোদে শুকিয়ে হাতে তৈরি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ইটগুলো প্রত্যেকটা নিজেদের মধ্যে কাদার প্রলেপের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে দেওয়াল আকারে আবিষ্কৃত হয়েছিল। আর আশ্চর্যজনকভাবে প্রত্যেকটা ইটের আকার ছিল একই অনুপাতের। যেমন, একেকটা ইট চার একক লম্বা, দুই একক প্রস্থ এবং এক একক উচ্চ ছিল। এ থেকে মনে করা হয়, মানুষ তখন রীতিমতো কাঠের বাক্সের নির্দিষ্ট ফর্মার সাহায্যে ইট তৈরি করত। সমগ্র মিশরীয় ও সিন্ধুসভ্যতায় ছোটবড়ো ঘরবাড়ি, খামার, শস্যাগার প্রভৃতি ক্ষেত্রে এ ধরনের ইটের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়েছে। কাঠের ফর্মায় তৈরি ইটগুলো খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ – ৬৪০০-এর মধ্যে তৈরি বলে মত প্রকাশ করা হয়।</div><div>. </div><div>. </div><div>২৭. স্লেজ (Sledge) (খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০)</div><div>. </div><div>আজকালকার ‘স্নোমোবাইল’-এর অনেক অনেক আগেই আমাদের পূর্বপুরুষেরা বরফ দিয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে এক পরিবেশ-বান্ধব যানের উদ্ভাবন করে ফেলে। পরবর্তীকালে তাই স্লেজগাড়ি নামে পরিচিত হয়। উত্তর ইউরোপের আর্কটিক অঞ্চলে কাঠনির্মিত স্লেজ আবিষ্কৃত হয় যা প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০-এর সময়কার। অনুমান করা হয়, প্রাথমিক অবস্থায় এই স্লেজ মানুষ দ্বারা টানা হলেও পরে ধীরে ধীরে তা কুকুর এবং মেরুষাঁড় দিয়ে টানা শুরু হয়। এও ধারণা করা হয় যে মানুষ দ্বারা টানা স্লেজে চড়েই কিছু মানুষ প্রথমবারের মতো আর্কটিক এবং অ্যান্টার্কটিক অভিযানে বেরিয়ে পড়েছিল। স্লেজ শুধু বরফের ওপরেই নয়, ভিজে বা কর্দমাক্ত পথ, এমনকি শক্ত পাথুরে রাস্তাতেও চলাফেরা করত। সামনে থেকে কেউ পাথুরে রাস্তায় তেলজাতীয় কোনও তরল ছড়িয়ে দিত যাতে যানটির নীচের অংশটি শক্ত মাটি বা পাথরের ঘর্ষণে বাধাপ্রাপ্ত না হয়।</div><div>. </div><div>. </div><div>২৮. মালবাহী যান (Travois) (খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০)</div><div>. </div><div>ট্রাভয় শব্দটি কানাডিয়ান ফ্রেঞ্চ; উৎপত্তি ফরাসি শব্দ ট্র্যাভেইল (Travail)। এটি ইংরেজি ‘A’ আকৃতির একটা কাঠের ফ্রেম যা প্রাথমিকভাবে কুকুরের পিঠে বেঁধে একস্থান থেকে অন্যস্থানে মালপত্র বহন করা হত। পরে অবশ্য অধিক মালপত্র বহনের প্রয়োজনে বন্য ঘোড়া, খচ্চর এগুলোকে পোষ মানিয়ে কুকুরের বদলে ব্যবহার করা হত। কারণ, গ্রীষ্মকালে ক্লান্ত হয়ে গিয়ে কুকুরের গতি শ্লথ হয়ে পড়ত, আর কুকুরবাহী যানে কুড়ি থেকে ত্রিশ কেজি ওজনের বেশি ভার বহন করাও যেত না। ৭০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে সমতলভূমিতে বসবাসকারী নর্থ আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যেই এই ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। ট্রাভয়ের কোণের দিকটা কুকুরের পিঠে বেঁধে দেওয়া হত আর দুদিকের দুটি লম্বা কাঠের টুকরো মাটি ছুঁয়ে থাকত। আড়াআড়িভাবে বাঁধা দুয়েকটি কাঠ বা গাছের ডালের ওপর ভার চাপিয়ে মালপত্র বহন করা হত। বিশেষত শিকার করা মৃত জীবজন্তু বা জ্বালানি কাঠ আহরণ করে এই বিশেষ যানে চাপিয়ে ঘরে ফিরত আদিমানবেরা। সঠিক অর্থে চাকা আবিষ্কারের পরে গাড়ি তৈরি হলেও আসলে গাড়িঘোড়ার ধারণা কিন্তু অনেক আগে ওই ট্রাভয় থেকেই জন্ম নিয়েছিল।</div><div><br><br></div>]]></description>
         <enclosure url="" />
         <pubDate>2020-04-04 14:22:56 UTC</pubDate>
         <guid>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492467108</guid>
      </item>
      <item>
         <title>আবিষ্কারের খোঁজখবরঃ (৮ম পর্ব) </title>
         <author>r4bb1</author>
         <link>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492467512</link>
         <description><![CDATA[<div><br>২৯. জুতো (Shoe) (খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০)</div><div>. </div><div>জুতো আবিষ্কারের স্বপক্ষে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণাদি বিষয়ে বেশ জটিলতা থাকলেও আমেরিকায় খুঁজে পাওয়া প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০-এর কাছাকাছি সময়ের জুতোকেই পৃথিবীর প্রথম জুতো হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়। ১৯৩৮ সালে অরেগন-এর ফোর্ট রক গুহায় প্রাচীনতম জুতোর সন্ধান মেলে। এগুলো সাধারণত গাছগাছড়ার শক্ত লতাপাতা, দড়িদড়া আর বন্য জীবজন্তুর চামড়া দিয়েই তৈরি করা হত বলে মনে করা হয়। একদল প্রত্নতাত্ত্বিক আদিমানবের পায়ের আঙুলের হাড় পরীক্ষা করে এও বলেন, যেহেতু হাড়ের ক্রমহ্রাসমান বৃদ্ধি এবং ক্রমবৃদ্ধিমান শক্তির পরিচয় পাওয়া যায় সেহেতু প্রায় ৪০০০০ বছর পূর্বেও নিশ্চয়ই মানুষ জুতোর ব্যবহার জানত। সে জুতোর ডিজাইন ছিল আধুনিক জুতোর মতোই আর পা-কে সুরক্ষিত করে রাখে এমন সোলগুলো জুতোর সাথে দড়িদড়া দিয়ে বাঁধা থাকত।</div><div>. </div><div>. </div><div>৩০.বয়ন শিল্প (Woven Cloth) (খ্রিস্টপূর্ব ৬৫০০)</div><div>. </div><div>বন্য আদিমজাতি যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে সভ্যতার শিখরের দিকে পা রাখতে শুরু করল। সে এখন আর কাঁচা মাংস খায় না। নিয়ন্ত্রিত আগুন তাকে সে বর্বরতা থেকে মুক্তি দিয়েছে। সে নিজস্ব প্রয়োজনে জুতো বানিয়েও পরতে শিখেছে। এখন জীবজন্তুর চামড়া গায়ে রাখতেও মন চায় না। সেই তাগিদেই একসময় সে কাপড় বুনতেও শিখে গেল। কাঠের ফ্রেমে লম্বালম্বিভাবে কিছু তন্তু বেঁধে আর কিছু আড়াআড়িভাবে ঢুকিয়ে কাপড় বুনত তারা।</div><div>. </div><div>মানুষ প্রথমবারের মতো জীবজন্তুর চামড়ার আঁশ দিয়ে তন্তু বানিয়ে কাপড় তৈরি করতে শিখল। কিন্তু তা তেমন টেকসই না হওয়ায় আস্তে আস্তে তাপ আর চাপের মাধ্যমে সেই তন্তু ব্যবহার করে সে সফলতার মুখ দেখল। ১৯৬২ সালে তুরস্কের ক্যাতালহয়ুক শহরে আদিমানবের কাপড় বোনার স্বপক্ষে প্রাচীনতম প্রমাণ মেলে। সে শহরে একটুকরো ‘কার্বনাইজড ক্লথ’-এর সন্ধান মেলে যা প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৬৫০০-এর সময়ের। কিন্তু সেটা ফ্ল্যাক্স (একটি বন্য ভূমধ্যসাগরীয় গাছ) না ভেড়ার পশমের তৈরি তা জানা যায়নি। তবে তার আগেই মিশরে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-এর সময়কার একটুকরো লিনেন কাপড় খুঁজে পাওয়া যায়। মনে করা হয় যে তুরস্ক আর মিশরে খুঁজে পাওয়া কাপড়ের টুকরোগুলো একই জিনিস দিয়ে তৈরি। তবে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করেও এই দ্বন্দ্বের নিশ্চিত অবসান করা সম্ভব হয়নি।</div><div>. </div><div>. </div><div>৩১. মানচিত্র (Map) (খ্রিস্টপূর্ব ৬৫০০)</div><div>. </div><div>প্রথম মানচিত্র তৈরি করার কৃতিত্ব কিন্তু ব্যাবিলনবাসীদের। পৃথিবীর আনাচে কানাচে দ্রুত লোকসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে মানুষের মস্তিষ্কেরও তখন দ্রুত বিকাশ হচ্ছে। অজানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে মানুষ বুঝতে পারল যে কোনও স্থানে দ্বিতীয়বার বা বারবার যেতে গেলে ওই জায়গার বিশিষ্ট স্থান বা দ্রষ্টব্যগুলোর অবস্থান যতটুকু সম্ভব সঠিকভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। ভাবনাচিন্তার ফসল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল মানচিত্র। ১৯৬১ সালে তুরস্কের ক্যাতালহয়ুক শহরে একটা দেওয়ালে আঁকা মানচিত্র আবিষ্কৃত হয় যাতে কিছু বাড়িঘর আর একটা আগ্নেয়গিরির চুড়ো নজরে আসে। মানচিত্রটির বয়স নির্ধারিত হয় প্রায় ৮৫০০ বছর। প্রসঙ্গত, পৃথিবীতে বহুদিন এই মানচিত্র নামক বস্তুটার সঠিক কোনও নীতি নির্দেশিকা ছিল না। শেষে ১৮৯১ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল জিওগ্রাফিক্যাল কংগ্রেস’ পৃথিবীর স্কেল ম্যাপের সবিস্তার বিবরণী প্রকাশ করে।</div><div>. </div><div>. </div><div>৩২. কাজল (Eyeliner) (খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০)</div><div>. </div><div>বহু শতাব্দী প্রাচীন এই প্রসাধনীর সাহায্যে মানুষ নিজের সৌন্দর্যবর্ধন বা সামাজিক রীতিনীতি পালন করে আসছে। সর্বপ্রথম কাজলের ব্যবহার দেখা যায় প্রায় ৪০০০ খ্রিস্টপূর্বে। এর স্বপক্ষে প্রাচীন নগরসভ্যতাগুলোতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের খোঁজ মেলে। দক্ষিণ ইরাক এবং মিশরের আদিবাসীরা নরনারী নির্বিশেষে অশুভ শক্তির কুদৃষ্টি থেকে নিজেদের রক্ষার্থে চোখের চারপাশে মোটা করে কাজলের প্রলেপ লাগাত। মাটিতে মিশে থাকা সীসার সালফাইড বা অ্যান্টিমনি সালফাইড দ্বারা প্রস্তুত এই ঘন কালো মলমের মতো কাজল এদের অন্যতম প্রসাধন সামগ্রী হিসেবেও বিবেচিত হত।</div>]]></description>
         <enclosure url="" />
         <pubDate>2020-04-04 14:23:26 UTC</pubDate>
         <guid>https://padlet.com/r4bb1/hijibiji/wish/492467512</guid>
      </item>
   </channel>
</rss>
